
এম আবু হেনা সাগর,ঈদগাঁও
টানা বৃষ্টিপাতে ঈদগাঁওর নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়ে শিক্ষা্থীও নারী-পুরুষরা চরম বিপাকে পড়েন। শনিবার বিকেল থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিপাত এখনো অব্যাহত রয়েছে। বৃষ্টিপাতে জবুতবু হয়ে পড়েছেন খালের পাড়ের পাশ্ববর্তীসহ নিন্মাঞ্চল এলাকার মানুষরা।দেখা যায়, ঈদগাঁও উপজেলার সদর ইউনিয়ন মাইজ পাড়ার বাইন্যা খাল (ভরাখাল)পাশ্ববর্তী স্থানে ঘরবাড়ীর উঠানসহ চলাচল পথ প্লাবিত হয়ে পড়ে। যার ফলে চলাফেরায় নিদারুন কষ্ট পাচ্ছে শিশু কিশোরও নারী-পুরুষরা। একদিকে থেমে থেমে বৃষ্টিপাত কমছেনা, অন্যদিকে খালে পানি চলাচল না থাকায় মরণ দশার কবলে পড়ে এলাকার লোকজন। পানি চলাচলের নেই কোন সুষ্ঠু পরিবেশ। দীর্ঘকালে দেখার যেন কেউ নেই।টানা বৃষ্টির ফলে এলাকার চারপাশ পানিতে ভর পুর। শিক্ষাথীরা প্রতিষ্ঠানে যেতে অনিহা প্রকাশ করছে। বাইন্যা খালে জমে থাকা আবজনার গন্ধে বিষিয়ে উঠে গ্রামের পরিবেশ। চলাচলরত লোকজনরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। সে সাথেই ঈদগাঁও বাজারের চাউল বাজার ও হাসপাতাল সড়কে পানি জমে ময়লার দূগন্ধে ক্রেতা এবং বিক্রেতারা বিপাকে পড়েন। সংস্কারের উদ্যোগ নেই।আরও দেখা যায়,বাড়ী থেকে বের হতে পারছেনা লোকজন। বৃষ্টিতে কোন কাজকর্ম না থাকায় বহু জন বেকারত্বেই দিন কাটাচ্ছেন। দৈনিক আয়ের উপর নির্ভরশীল কর্মজীবিরা কর্মহীন হয়ে পড়ে। খালপাড়ের অবস্থানরত অনেকে পানির কারনে মাটির চুলাতে আগুন জ্বালাতে পারেননি। রাইস কুকার ও গ্যাসের চুলায় রান্নার কাজ সারতেও দেখা যায়। বৃষ্টি বাদলের দিনে তেমন কাজকর্ম নেই।সূত্র মতে,খালটি দিয়ে একসময় পানি চলাচল করত। বিভিন্ন সময়ে আমন এবং বোরো মৌসুমে বহুচাষী খালের পানিতে চাষাবাদ করত। এখন কালের বিবর্তনে পুরনো খালটিতে দখল, দোকানপাঠসহ বাড়ীঘর নির্মানে হিড়িক পড়েছে। যার কারনে খালটি একেবারেই সংকুচিত হয়ে চলমান বৃষ্টিপাত ও খালের পানি নিস্কাশনের পথ অনেকটাই বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। টানা কয়দিনের বৃষ্টিপাতে পানি খাল দিয়ে চলাচল করতে না পেরে খালপাড়ের পাশ্ববর্তী বসতবাড়ীর আঙ্গীনা সহ উঠান প্লাবিত হয়ে বাড়ীতে প্রবেশ করার উপ ক্রম শুরু হয়েছে। খালটি খননের অভাবে খাল পাড়ের লোকজনের বর্ষা মৌসুমে মরন দশা কাটছেনা কোনভাবে।স্থানীয় জাহেদ,তাহের,নুরুল কবির জানান, এমন দূভোগ আর কতকাল। প্রতিবছর বর্ষাকাল এলে চরম আতঙ্ক থাকতে হয়। এতকষ্ট সহজে মেনে নেওয়া যায়না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গৃহবধূরা জানান, একদিকে জমে থাকা পানি, অন্যদিকেই বৃষ্টির পানি। পানি যাওয়ার ব্যবস্থা না থাকায় দুই সমস্যায় সম্মুখীন খালপাড়ের মানুষরা। সচেতন মহল জানান,দীর্ঘকাল ধরে খালটি খনন না করার মরণ দশায় ভোগছে স্থানীয় লোকজন। যদি খালটি খনন করা হত, পানি চলাচল করতে পারলে খালপাড়ের লোকজনকে ভোগান্তিতে পড়তে হতনা। খাল খনন করে জনদূভোগ থেকে রক্ষা করার দাবী।স্থানীয় ইউপি সদস্য বজলুল রশিদ জানান, এই খালটি পূর্ণ খনন না করার কারনে লোকজনরা পানিতে কষ্ট পাচ্ছেন। খাল খনন জরুরী বটে।
